সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি হাওরের জন্য জলবায়ু খাতে ১,২০০ কোটি টাকা, ফিরছে টাঙ্গুয়ার সহব্যবস্থাপনা প্রকল্প শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) মাজারের আয়ের টাকা কোথায় যায়, হিসেব চাইলো জেলা প্রশাসন হাওরাঞ্চলের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কোন খাতে কত দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব ইউরোপগামী পথে মৃত্যু থামছে না, পাঁচ মাসেই প্রাণহানি ১৩০০ ছাড়াল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে, উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না ন্যায়বিচারের দাবি বাদীর, হয়রানির অভিযোগ এলাকাবাসীর বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস সুবিপ্রবি’র ভিসি অপসারণ ও স্থায়ী ক্যাম্পাস সদর উপজেলায় বাস্তবায়নের দাবি নির্যাতিত ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আজ হাওরে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন এমপি কামরুল আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে মাঠে নামছে ১১ দল
পূর্ব ইব্রাহীমপুরে নদী ভাঙন

সুরমা’র গ্রাসে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-সড়ক

  • আপলোড সময় : ৩০-০৪-২০২৫ ০১:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৪-২০২৫ ০১:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সুরমা’র গ্রাসে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-সড়ক
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রাম সুরমা নদীর ভাঙনে পড়ে একাধিক ঘরবাড়ি ও অর্ধ শতাধিক গাছপালা বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যাতায়াতের সড়কটিও বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই নদী ভাঙন রোধে সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিকার হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে প্রায় ২০ বছর আগে। চলমান ভাঙন রোধে ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে পুরো ভাঙন এলাকায় ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। এর দুই বছর পর পুনরায় ভাঙন শুরু হয়। এই ভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সাথে গ্রামের আব্দুর রূপান, আলী জাহান ও রহিম হোসেনের বাড়ির অংশ এবং বাড়ির সামনের রাস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। একাধিক বাসিন্দা জানান, গ্রামের রাস্তা বিলীন হওয়ার কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, শিশু শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগী, মহিলা, চাকুরিজীবী, মসজিদে আগত মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কবরস্থান রয়েছে ঝুঁকির মুখে। তারা জানান, নদীর তীরে গাজী রহমানের বাড়ি বিলীন হওয়ার পর ফারুক মিয়ার বাড়ি বিলীন হয়েছে, নদীতে বিলীন হয়েছে আব্দুল মুতলিব ও মুসলিম উদ্দিনের বাড়ির অংশ। স্থানীয়রা আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নদী ভাঙনের বিষয়ে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে কিছু বস্তা ফেললেও কাজ হয়নি, থামেনি ভাঙন। এখন নদীতে বিলীন হয়েছে যোগাযোগ রাস্তা। এই রাস্তা বিলীন হওয়ায় ধীরে ধীরে গ্রাম দুই ভাগে বিভক্ত হতে চলেছে। পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা কমর উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ির সামনে অন্তত আড়াই শত ফুট প্রশস্ত নদীর চর ছিল। সবই ভেঙে আমাদের বাড়িও চলে গেছে নদীগর্ভে। একই গ্রামের বাসিন্দা আলী জাহান, শুকুর আলী, রহিম হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ির অংশ প্রায় ৫০ ফুট ও বাড়ির সামনের রাস্তা ও অসংখ্য গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন কবরস্থান বিলীন হতে চলেছে। তবে ২/১ বছর আগে এখানে নদী ভাঙন রোধে কিছু বস্তা ফেলা হয়েছিল। তবুও ভাঙন প্রতিরোধ হয়নি। জিয়াউল হক বলেন, চলাচলের পাকা সড়কসহ প্রায় দেড়শত ফুট নদীর তীর ও বাড়ির জায়গা নদীতে ভেঙে পড়েছে। এখন আমরা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। গাজী রহমান বলেন, আমার বাড়ি পুরোটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন আমি আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। আমার আশপাশের অনেকের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সুরমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর আগে থেকে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে গ্রাম। কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিলেও ভাঙন রোধ হচ্ছে না। পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের পূর্ব অংশের বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদি যোগাযোগ রাস্তা রক্ষা না হয়, তবে গ্রাম দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যাবে। এপাড়া ওপাড়ার সাথে নৌকায় যোগাযোগ করতে হবে। এ বিষয়ে সোমবার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ভাঙনের প্রতিকার চেয়ে আবেদন দিয়েছি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, মইনপুর, জগন্নাথপুর ও পূর্ব ইব্রাহীপুর গ্রামের নদী ভাঙন রোধে আগামীতে বরাদ্দ আসলে কাজ হবে। পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের নদী ভাঙন রোধে আপাতত জরুরি কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে কাজ হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম